প্রধান সূচি

মজুরির দাবীতে চা- শ্রমিকরা আন্দোলনে অনড় ঃ দাবী আদায়ে চা শ্রমিকদের শিশু সন্তানরা আন্দোলনে যুক্ত

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ ৩০০ টাকা মজুরির দাবীতে চা বাগানের শ্রমিকরা আন্দোলনে অনড় ঃ দাবী আদায়ে এবার চা শ্রমিকদের শিশু, সন্তান, স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন। ‘বাচার মত বাচতে চাই ৩০০ টাকা মজুরি চাই’। ‘৩০০ টাকা দাও নাইলে বিষ দাও’। এসব শ্লোগানে শ্লোগানে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আজ ২৪ আগস্ট সকাল থেকে সিলেট বিভাগের চা বাগানের সকল শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করেন। গত ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার ভাড়াউড়া চা বাগানের নারী চা শ্রমিকরা মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়াসহ দায়িত্বশীলরা বাগানে বাগানে গিয়ে শ্রমিকদেও কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। যেসব বাগানের শ্রমিকদের একাংশ কাজ শুরু করেছিলেন, তারাও ফের কর্মবিরতি শুরু করেন। উল্লেখ্য- ১২০ থেকে ৩০০ টাকায় দৈনিক মজুরি উন্নতকরণের দাবিতে সিলেটসহ সারা দেশের চা শ্রমিক গত ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নেমেছেন। ৯ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত তারা ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের পর গত ১৩ আগস্ট থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন থামাতে শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সমাধান আসেনি। চলমান জটিলতা নিরসনে সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দফতর অফিসে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেণ পাল বৈঠকে বসেন। তিনপক্ষীয় ওই বৈঠকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নেতারা এ সিদ্ধান্ত মেনে আসলেও শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে ৩শ’ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ অবস্থায় ওই দিন রাতে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক। বৈঠকে আন্দোলন স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয় চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের প্রতি। সে আহ্বান মেনেও নেন স্থানীয় চা শ্রমিক নেতারা। কিন্তু সাধারণ চা শ্রমিকরা বেঁকে বসেন এবং দিনভর কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ, মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। এক পর্যায়ে গত ২১ আগস্ট রাতে সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, শ্রমদপ্তরের প্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাব মেনে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইউনিয়নের নেতারা। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আবারও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ চা শ্রমিক। এ অবস্থায় ২১ আগস্ট (রোববার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চা শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মৌলভীবাজার ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদ উদ্দিন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ উদ্দীন আহমদ ও জেলা সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান এবং চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা ও অন্যান্য চা শ্রমিক ইউনিট এবং পঞ্চায়েত প্রধান। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠকে ছিলেন- মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গল এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, সহ-সভাপতি পঙ্কজ কন্দ, বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, কমলচন্দ্র ব্যানার্জিসহ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অনান্য নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে সিলেটের জেলা প্রশাসক চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত আছেন বলে চা শ্রমিক নেতাদের জানান। তিনি বলেন- প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে চা শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন। বৈঠকে এর সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক।
আন্দোলনে শরীক চা-শ্রমিকরা তাদের নেতাদের দায়ী করে বলেন- এ দাবী আমাদের দীর্ঘদিনের। চা-শ্রমিক নেতারা শুধু তাদের নিজের পকেট ভর্তি করেছে। শ্রমিকদের কল্যাণে এগিয়ে আসেনি। আমরা মজুরী ৩শ টাকা চাই।